ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা- ১ম পত্র
অধ্যায়-১ ব্যবসায়ের মৌলিক ধারণা
অধ্যায়-২ ব্যবসায় পরিবেশ
অধ্যায়-৩ একমালিকানা ব্যবসায়
অধ্যায়-৪ অংশীদারি ব্যবসায়
অধ্যায়-৫ যৌথ মূলধনী ব্যবসায়
অধ্যায়-৬ সমবায় সমিতি
অধ্যায়-৭ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়
অধ্যায়-৮ ব্যবসায়ের আইনগত দিক
অধ্যায়-৯ ব্যবসায়ে সহায়ক সেবা
অধ্যায়-১০ ব্যবসায় উদ্যোগ
অধ্যায়-১১ ব্যবসায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার
অধ্যায়-১২ ব্যবসায় নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা- ২য় পত্র
অধ্যায়-১ ব্যবস্থাপনার ধারণা
অধ্যায়-২ ব্যবস্থাপনার নীতি
অধ্যায়-৩ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
অধ্যায়-৪ সংগঠিতকরণ
অধ্যায়-৫ কর্মীসংস্থান
অধ্যায়-৬ নেতৃত্ব
অধ্যায়-৭ প্রেষণা
অধ্যায়-৮ যোগাযোগ
অধ্যায়-৯ সমন্বয়সাধন
অধ্যায়-১০ নিয়ন্ত্রণ
Sunday, May 19

বাণিজ্যিক ব্যাংক কাকে বলে ? বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলী ও বৈশিষ্ট্য

বাণিজ্যিক ব্যাংক কাকে বলে ?

যে ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানত গ্রহণ ও ঋণদান করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে। অর্থাৎ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে যে ব্যাংক আমানত সংগ্রহ, ঋণদান ও গ্রাহকদের বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে । 

যে ব্যাংক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে অর্থ ও অর্থের মূল্যে নিরূপণযোগ্য লেনদেন করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে।  – Professor Roger

অর্থাৎ, বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো

  • একটি মধ্যস্থ আর্থিক কারবারি প্রতিষ্ঠান;
  • বাণিজ্যিক ব্যাংককে অর্থনীতির জীবনীশক্তি বলা হয়;
  • এ ব্যাংক অর্থ ও আর্থিক কার্যাদির লেনদেন করে;
  • সঞ্চয় সংগ্রহের মাধ্যমে মূলধন গঠন করে এবং প্রয়োজনে উত্তোলনের সুযোগ দেয়; 
  • বিভিন্ন আর্থিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে;

বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য

যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা । বাণিজ্যিক ব্যাংকের কতকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ব্যাংকটিকে অন্য ব্যাংক থেকে ভিন্ন রূপ দিয়েছে । 

১. গঠন: অন্যান্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বাণিজ্যিক ব্যাংকের গঠনপ্রণালি কিছুটা সহজ। ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনানুসারে বাণিজ্যিক ব্যাংক গঠিত ও পরিচালিত হয়।

২. শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থা : বাণিজ্যিক ব্যাংক সাধারণত শাখা ব্যাংক নিয়ে কাজ করে। বৃহৎ ব্যাংকিং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশে-বিদেশে শাখা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমানত গ্রহণ, ঋণদান, অর্থ স্থানান্তর, ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সেবা ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পাদন করে । 

৩. মালিকানা: সাধারণত বেসরকারি মালিকানায় অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংক গঠিত হয়। তবে সরকারি অথবা বেসরকারি অথবা যৌথমালিকানায় বাণিজ্যিক ব্যাংক গঠিত ও পরিচালিত হতে পারে। 

৪. বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি : বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অর্থ ছাড়া অন্যান্য সহজ বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি । প্রধানত চেক, বিনিময় বিল, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, প্রত্যয়পত্র, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি বাণিজ্যিক ব্যাংক সৃষ্ট সহজ বিনিময়ের মাধ্যম। 

৫. আমানত গ্রহণ ও ঋণদান : বাণিজ্যিক ব্যাংক একপক্ষ হতে আমানত হিসেবে সঞ্চয় সংগ্রহ করে যা ধার গ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং অন্যপক্ষকে ধার হিসেবে স্বল্পমেয়াদে অর্থ প্রদান করে যা ঋণ প্রদান হিসেবে গণ্য হয় ।

৬. তালিকাভুক্ত ব্যাংক: যে সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম নির্দেশনা মেনে এর সদস্যভুক্ত হয় সে সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক তালিকাভুক্ত ব্যাংক হিসেবে গণ্য হয়। তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৬১ টি।

৭. মুনাফা অর্জন: বাণিজ্যিক ব্যাংক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে গঠিত ও পরিচালিত হয়। বলা হয়ে থাকে মুনাফা অর্জনের মৌলিক উদ্দেশ্যেই বাণিজ্যিক ব্যাংক গঠিত হয়ে থাকে। তবে মুনাফা অর্জন বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলেও এর পরোক্ষ উদ্দেশ্য জনকল্যাণ। 

৮. ঋণ আমানত সৃষ্টি : বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিশেষ প্রক্রিয়ায় আমানত সৃষ্টি করা। অর্থাৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক নগদে ঋণ না দিয়ে ঋণগ্রহীতার আমানত হিসেবে স্থানান্তর পূর্বক পুনরায় উক্ত আমানত থেকে নতুন ঋণের সৃষ্টি করে। 

৯. সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান: মুনাফা অর্জন বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলেও এই ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য নিত্যনতুন বিভিন্ন সেবা নিয়ে আসে। তার মধ্যে ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সেবা অন্যতম। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং জগতে নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন অভিনব পন্থায় গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছে। যার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক একটি সেবাধর্মী ব্যাংক হিসেবে রূপ নিয়েছে। 

বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলী

অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ ও ঋণদান বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কার্যাবলী হলেও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ ব্যাংক বিভিন্নমুখী দায়িত্ব পালন করে থাকে। বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্তৃক সম্পাদিত এ কাজগুলোকে সাধারণ কার্যাবলি, সেবামূলক কার্যাবলি এবং প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যাবলি এ তিনভাগে বিভক্ত করা যায়।

ক. সাধারণ কার্যাবলি: একটি ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যাংক যে সকল সাধারণ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে তা নিচে আলোচনা করা হলো-

১. আমানত গ্রহণ : বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কাজ হলো গ্রাহকের নিকট হতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ সঞ্চয় হিসেবে বিভিন্ন প্রকার হিসাব যেমন সঞ্চয়ী, চলতি ও স্থায়ী হিসাবের মাধ্যমে সংগ্রহ করা। স্থায়ী ও সঞ্চয়ী হিসাবের আমানতকারীদের জমার অর্থের ওপর ব্যাংক নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করে থাকে। চলতি হিসাবে সুদ প্রদান করা না হলেও এই হিসাবের গ্রাহকরা অন্যান্য গ্রাহক অপেক্ষা অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে।

২. অর্থ উত্তোলনের সুযোগ : বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন হিসাবে আমানতকারীদের জমাকৃত অর্থ চেক, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং পণ্য যেমন ডেবিট কার্ড, অনলাইন ব্যাংকিং ইত্যাদির মাধ্যমে উত্তোলনের সুযোগ প্রদান করে। গ্রাহকগণ চলতি হিসাব হতে দৈনিক যতবার প্রয়োজন অর্থ উত্তোলন করতে পারে। পক্ষান্তরে, সঞ্চয়ী হিসাব হতে সপ্তাহে শুধু দুই বার বা নিয়ম অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পায়। আবার স্থায়ী হিসাবের গ্রাহকরা সাধারণত মেয়াদপূর্তির পূর্বে অর্থ উত্তোলন করতে পারে না। বর্তমানে অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংক ইলেকট্রনিক মাধ্যমে (এটিএম) গ্রাহকদেরকে ২৪ ঘণ্টা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিচ্ছে ।

৩. ঋণদান : বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্যতম কাজ হলো গ্রাহকদের নিকট হতে বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে সঞ্চিত অর্থ হতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তারল্য হিসাবে রেখে অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন মেয়াদে ঋণদান করা। উক্ত ব্যাংক বিভিন্ন গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদেরকে সুদ বা মুনাফার বিনিময়ে অর্থ ধার দিয়ে থাকে। 

৪. বিনিয়োগ: বাণিজ্যিক ব্যাংক শুধু ঋণদান করে তা নয়, প্রয়োজনে বিভিন্ন লাভজনক খাতে এই ব্যাংক অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি শেয়ার, বন্ড এবং অন্যান্য সিকিউরিটি ক্রয় করে বিনিয়োগে অংশগ্রহণ করে। 

৫. ঋণ আমানত সৃষ্টি : বাণিজ্যিক ব্যাংক গ্রাহকদের ঋণদানের পাশাপাশি ঋণ আমানত সৃষ্টি করে থাকে। অর্থাৎ ঋণগ্রহীতাকে মঞ্জুরীকৃত ঋণের অর্থ নগদে প্রদান না করে ব্যাংকে একটি হিসাব খুলতে বলা হয়। ঋণের অর্থ সেই হিসাবে জমা বা ক্রেডিট করা হয় ও ঋণগ্রহীতাকে চেক বই সরবরাহ করা হয়। এরপর ঋণগ্রহীতা চেক কেটে প্রয়োজনমতো ঐ হিসার থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারে। আর এই প্রক্রিয়ায় প্রদত্ত ঋণ আমানত হিসেবে পুনরায় ব্যাংকে জমা হয়। এভাবে ঋণ আমানত সৃষ্টি করা ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

৬. বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি: আর্থিক লেনদেন ও দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির মাধ্যমকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংক চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, বিনিময় বিল, প্রত্যয়পত্র, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি বিনিময়ের মাধ্যাম সৃষ্টিতে কাজ করে। 

৭. মূলধন গঠন : জনগণের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সঞ্চয়গুলো বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে একত্রিত করে মূলধন গঠন করা বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মূলধন গঠন করে শিল্প ও বাবসায়-বাণিজ্যে অর্থসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংক নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

৮. বিল বাট্টাকরণ : বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ীর বিনিময় বিল মেয়াদপূর্তির পূর্বে তাদের প্রয়োজনে বাট্টায় ভাঙানোর সুযোগ দেওয়া বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্যতম কাজ । এ ধরনের কাজের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা দ্রুত স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজন মেটাতে পারে পাশাপাশি ব্যাংক বাটা প্রাপ্তির মাধানে মুনাফা অর্জন করতে পারে। 

৯. কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সহায়তা দান : তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রত্যক্ষভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম নির্দেশনা মেনে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ও ঋণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সহায়তা করে থাকে ।

খ. সেবামূলক কার্যাবলি: সাধারণ কার্যাবলি ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো জনগণের কল্যাণে নানাবিধ সেবামূলক কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে। 

১. অর্থ স্থানান্তর : গ্রাহকদের প্রয়োজনে বাণিজ্যিক ব্যাংক একস্থান থেকে অন্যস্থানে, একদেশ হতে অন্যদেশে অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করে থাকে। এ কাজকে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দেশে-বিদেশে শাখা স্থাপন করে, অনলাইন সেবা চালু করেছে। এছাড়াও অর্থ স্থানান্তরে চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, ভ্রমণকারী চেক ইত্যাদি দলিল ইস্যু করে।

২. তথ্য সরবরাহ : গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায়িক তথ্য উপস্থাপন করে । এসব ব্যবসায়িক তথ্য ব্যবসায়ী শ্রেণির গ্রাহকদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে থাকে। 

৩. পরামর্শ প্রদান : বাণিজ্যিক ব্যাংক গ্রাহকদের প্রয়োজনে ব্যবসায়সংক্রান্ত, আয়করসংক্রান্ত, বিনিয়োগসংক্রান্ত ইত্যাদি ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে থাকে। ব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী শিল্প ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ সহজ হয়।

৪. আধুনিক প্রযুক্তিগত সেবা প্রদান : বাণিজ্যিক ব্যাংক গ্রাহকদের আধুনিক বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সেবা প্রদান করে থাকে। এজন্য ব্যাংক এটিএম বুথ স্থাপন, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক প্লাস্টিক কার্ড (ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি) ইস্যু, অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা ইত্যাদি ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং এর বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকদের আধুনিক প্রযুক্তিগত সেবা প্রদান করছে।

৫. আর্থিক সচ্ছলতার সনদ প্রদান : বর্তমান সময়ে গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রয়োজনে আর্থিক সচ্ছলতার সনদের প্রয়োজন হয়। যেমন : ব্যবসায়ীদের, বিদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে, বিদেশ গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের। এক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংক আর্থিক সচ্ছলতার সনদ প্রদান করে উক্ত গ্রাহকদের সেবা প্রদান করে থাকে।

৬. অর্থ ও সম্পদের নিরাপত্তা : বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণের অর্থ জমা রাখার মাধ্যমে অর্থের নিরাপত্তা বিধান করে থাকে। এছাড়া গ্রাহক তার মূল্যবান সম্পদের দলিলপত্র, অলংকারাদি ইত্যাদি লকার সেবার মাধ্যমে ব্যাংকের নিকট জমা রাখতে পারে। যার বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংক সার্ভিস চার্জ আদায় করে থাকে। 

গ. প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যাবলি : বাণিজ্যিক ব্যাংক গ্রাহকদের প্রতিনিধি হিসেবেও অনেকগুলো কাজ সম্পাদন করে থাকে।

১. অর্থ আদায় ও পরিশোধ : বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পে-অর্ডার, দাগকাটা চেক, ব্যাংক ড্রাফট ইত্যাদি ব্যাংক সৃষ্ট দলিল অধিক ব্যবহৃত হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংক গ্রাহকদের পক্ষে উল্লেখ্য দলিলের টাকা সংগ্রহ করে থাকে। আবার গ্রাহকদের নির্দেশে বিভিন্ন খাতে টাকা পরিশোধের মাধ্যমে ব্যাংক জনপ্রতিনিধিত্বমূলক কাজ করছে। 

২. বৈদেশিক বাণিজ্যে সহায়তা: বাণিজ্যিক ব্যাংক বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যবসায়ীদের পক্ষে প্রত্যয়পত্র বা letter of credit ইস্যু করে, বিনিময় বিলে স্বীকৃতি দিয়ে ব্যবসায়ীদের সহায়তা করে থাকে । 

৩. সিকিউরিটিজ ব্রুয়-বিক্রয় : বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে শেয়ার, ডিরেখার বা ঋণপত্র ইত্যাদি সিকিউরিটিক ক্রয়-বিক্রয় করে। এছাড়া সরকারি বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় করাও এ ব্যাংকের অন্যতম প্রতিনিধিত্বমূলক কাজ। 

৪. অবলেখক হিসেবে কাজ : বাণিজ্যিক ব্যাংক বিনিয়োগ ব্যাংকের মতো অবলেখকের কাজ করে থাকে। কোনো নতুন কোম্পানি বা বিদ্যমান কোম্পানির শেয়ার বিক্রয়ের দায়িত্বও এরূপ ব্যাংক নিয়ে থাকে। উক্ত কোম্পানিগুলো থেকে এ কাজের জন্য ব্যাংক নির্দিষ্ট হারে কমিশন, অবলেখন ফি নিয়ে থাকে।

৫. অছি হিসেবে কাজ : বাণিজ্যিক ব্যাংক গ্রাহকের সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ তথা আছি হিসেবে কাজ করে। এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে মৃত ব্যক্তির অছি হিসেবে উত্তরাধিকারীদেরকে আর্থিক সুবিধাদি প্রদানসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দেখাশুনা ও ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ করে।

৬. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি : বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকে। যেমন: যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে নিকাশ ঘরের প্রতিনিধিত্ব করে। এছাড়াও ঋণ নিয়ন্ত্রণ, অর্থ বা মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সহায়তা করে থাকে । 

৭. গোপনীয়তা রক্ষা : গ্রাহকের প্রতিনিধি হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব হলো গ্রাহকের হিসাবের গোপনীয়তা রক্ষা করা। গ্রাহকের নির্দেশ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ, আইনগত অনুমতি অথবা আদালতের নির্দেশ ছাড়া ব্যাংক গ্রাহকের হিসাব সম্পর্কীত কোনো ধরনের তথ্য প্রকাশ করে না। 

উপসংহার

বাণিজ্যিক ব্যাংক জনসাধারণ, গ্রাহক এবং সর্বোপরি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ কার্য সম্পাদন করে থাকে। মুনাফা অর্জন বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলেও বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো উপরিউক্ত কার্যাদি ছাড়াও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, দরিদ্র ভাতা, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, বিভিন্ন দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি, শিল্প ও আঞ্চলিক উন্নয়ন ইত্যাদি কার্যে প্রশংসার ভূমিকা রাখে ।

 

FAQ

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে যে ব্যাংক আমানত সংগ্রহ, ঋণদান ও গ্রাহকদের বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে ।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান আয়ের উৎস্য ঋণদান করে সেখান থেকে সুদ নিয়ে মুনাফা অর্জন করা ।