ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা- ১ম পত্র
অধ্যায়-১ ব্যবসায়ের মৌলিক ধারণা
অধ্যায়-২ ব্যবসায় পরিবেশ
অধ্যায়-৩ একমালিকানা ব্যবসায়
অধ্যায়-৪ অংশীদারি ব্যবসায়
অধ্যায়-৫ যৌথ মূলধনী ব্যবসায়
অধ্যায়-৬ সমবায় সমিতি
অধ্যায়-৭ রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়
অধ্যায়-৮ ব্যবসায়ের আইনগত দিক
অধ্যায়-৯ ব্যবসায়ে সহায়ক সেবা
অধ্যায়-১০ ব্যবসায় উদ্যোগ
অধ্যায়-১১ ব্যবসায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার
অধ্যায়-১২ ব্যবসায় নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা- ২য় পত্র
অধ্যায়-১ ব্যবস্থাপনার ধারণা
অধ্যায়-২ ব্যবস্থাপনার নীতি
অধ্যায়-৩ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
অধ্যায়-৪ সংগঠিতকরণ
অধ্যায়-৫ কর্মীসংস্থান
অধ্যায়-৬ নেতৃত্ব
অধ্যায়-৭ প্রেষণা
অধ্যায়-৮ যোগাযোগ
অধ্যায়-৯ সমন্বয়সাধন
অধ্যায়-১০ নিয়ন্ত্রণ
Saturday, May 18

নিকাশ ঘর কি বা কাকে বলে ? নিকাশ ঘরের কার্যাবলী, গুরুত্ব, পদ্ধতি!

আসসালামুওলাইকুম ! আশা করছি সবাই ভালোই আছেন, আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় নিকাশ ঘর কি ? নিকাশ ঘরের কার্যাবলি, নিকাশ ঘরের গুরুত্ব ও নিকাশ ঘরের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো । অনেকেই নিকাশ ঘর সম্পর্কে জানেন না কিন্তু নিকাশ ঘর বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । তো চলুন জেনে নেই নিকাশ ঘর সম্পর্কে –

নিকাশ ঘর কি / কাকে বলে ?

নিকাশ ঘরের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Clearing House’ । এর আভিধানিক অর্থ হলো – নিষ্পত্তি স্থল । মধ্যযুগের শেষের দিকে ইউরোপীয় ব্যাংকারগণ একটি নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট ঘরে বসে তাদের মধ্যে উদ্ভূত পারস্পরিক দেনা-পাওনার নিষ্পত্তি করে নিত এবং তখন হতেই (Clearing House) শব্দ দুটির ব্যবহার আরম্ভ হয়।

নিকাশ ঘর হলো এমন একটি  স্থান বা ব্যবস্থা যেখানে বিশেষ কৌশলে আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা হয় । কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিকাশ ঘরের প্রধান হিসেবে কাজ করে ।  ১৭৭৫ সালে সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড “দি ব্যাংকারস ক্লিয়ারিং হাউস” প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নিকাশ ব্যবস্থার সূচনা হয়। বাংলাদেশে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালন করছে ।

“নিকাশ ঘর ব্যাংকসমূহের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান বা কক্ষ যার প্রধান কাজ হলো চেক হতে উদ্ভূত ব্যাংকসমূহের পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা।” – R. D Mall

উপরের আলোচনা থেকে আমরা কিছু নিকাশ ঘরের বৈশিষ্ট্য খুজে পাই তা হলো :

    • নিকাশ ঘর হলো প্রাত্যহিক আন্তঃব্যাংকিং লেনদেন নিষ্পত্তির স্থল 
    • কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্বাচিত কোনো নির্দিষ্ট ঘর বা স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে নিকাশ ঘর বসে
    • সদস্য ব্যাংকের প্রতিনিধিগণ নিকাশ ঘরে উপস্থিত হয়ে দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে।
    • কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিকাশ ঘরের প্রধান

সবশেষে আমরা বলতে পারি, নিকাশ ঘর হলো এমন একটি কৌশল বা ব্যবস্থা যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের তালিকাভুক ব্যাংকসমূহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাচিত স্থানে ও তত্ত্বাবধানে অ্যান্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে থাকে । যেসকল অঞ্চলে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংক নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালন করে ।

নিকাশ ঘরের কার্যাবলি

আন্তঃব্যাংকিং লেনদেন নিষ্পত্তিই নিকাশ ঘরের প্রধান কাজ । তাছাড়াও নিকাশ ঘর আরও যে সকল কার্য সম্পাদন করে থাকে তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি: গ্রাহকগণ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে দাগকাটা চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার ইত্যাদি ব্যাংকসৃষ্ট দলিল অন্য গ্রাহককে ইস্যু করে থাকে। এরূপ লেনদেন নিষ্পত্তিতে এক গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবের ইস্যুকৃত চেক অন্য গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় পাওনা নিষ্পত্তি করতে হয়। এ ধরনের দলিল ইস্যুর মাধ্যমে এক ব্যাংকের সাথে অন্য ব্যাংকের দেনা-পাওনা সৃষ্টি হয়। নিকাশ ঘরের প্রধান কাজ হলো আন্তঃব্যাংকিং থেকে উদ্ধৃত এসব দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা । 

২. অর্থ স্থানান্তর : নিকাশ ঘরের কারণে গ্রাহকগণ এক ব্যাংকের অর্থ অন্য ব্যাংকে সহজে স্থানান্তর করতে পারে। নিকাশ ঘরের অনুপস্থিতিতে এ ধরনের আন্তঃব্যাংকিং অর্থ স্থানান্তরে জটিলতা সৃষ্টি হতো । 

৩. লেনদেন সহজ করা: নিকাশ ঘরের অন্যতম আরেকটি কাজ হলো আন্তঃব্যাংকিং লেনদেন সহজ করা। 

৪. ক্ষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা : কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ঋণ নিয়ন্ত্রণ কৌশল নির্ধারণে বিকাশ ঘর সহায়তা করে । কারণ ঋণ নিয়ন্ত্রণ কৌশল বা পদ্ধতি প্রয়োগের পূর্বে প্রথমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তহবিলের পরিমাণ জানা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে নিকাশ ঘর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্যের তথ্য জানতে পারে। 

৫. তারল্য বজায় রাখা : মুদ্রাবাজারে তারল্য বজায় রাখতে নিকাশ ঘর কার্যকর ভূমিকা রাখে। কারণ অন্য ব্যাংকের ওপর ইস্যুকৃত চেক, ড্রাফট, বিল ইত্যাদি এর মাধ্যমে আদার হয়।

৬. নিশ্চয়তা: নিকাশ ঘরের মাধ্যমে সদস্য ব্যাংকগুলো এতটুকু নিশ্চয়তা পায় যে, তারা এর মাধ্যমে নিঃসন্দেহে চেক, ড্রাফট, পে-অর্ডার ইত্যাদি ইস্যু করে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে।

৭. লেনদেনের ঝুঁকি হ্রাস: নিকাশ ঘর বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নগদ লেনদেনের ঝুঁকি হ্রাসে কাজ করে থাকে। নিকাশ ঘরের মাধ্যমে নগদ অর্থের লেনদেন ছাড়াই আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা যায় বিধায় নগদ লেনদেনের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

৮. ব্যাংক ব্যবস্থাকে গতিশীল করা : নিকাশ ঘরের মাধ্যমে অতি দ্রুত দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা যায় বলে সময় ও শ্রম উভয়ই সাশ্রয় হয় । ফলে ব্যাংকব্যবস্থা আরও গতিশীল হয় 

আন্তঃশাখা দেনা-পাওনা নিষ্পত্তিতে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় অফিস নিকাশ ঘরের কাজ করে। অনুরূপভাবে আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালিত নিকাশ ঘর কাজ করে থাকে।

নিকাশ ঘরের পদ্ধতি

নিকাশ ঘর পদ্ধতি হলো এমন এক কৌশল বা মাধ্যম যার মাধ্যমে আন্তঃব্যাংকিং লেনদেন তথা দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি হয়ে থাকে । নিকাশ ঘরের পদ্ধতি মূলত দু’টি। একটি হলো আধুনিক বা স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর পদ্ধতি এবং অন্যটি হলো সনাতন নিকাশ ঘর পদ্ধতি।

ক. সনাতন নিকাশ ঘর পদ্ধতি: সনাতন নিকাশ ঘর পদ্ধতিতে লেনদেন নিষ্পত্তিকরণের বিষয়টি এখন প্রচলিত নেই বললেই চলে । 

আন্তশাখা দেনাপাওনা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সকল শাখা তাদের প্রাপ্য চেক, পে-অর্ডার, লি ইতাদির একটি বিবরণী প্রস্তুত করে প্রধান অফিসে পাঠায়। প্রধান অফিস নিকাশের ভূমিকা পালন করে। প্রধান অভিস বিভিন্ন শাখার হিসাবে ডেবিট ক্রেডিট করে (বিবরণীর ভিত্তিতে) আন্তঃশাখা দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে থাকে। 

আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নিকাশ ঘরের প্রধান হিসেবে ভূমিকা পালন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংক । এক্ষেত্রে যেসব অঞ্চলে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালন করে থাকে। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিগণ আসেন । সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সভাপতিত্ব করেন। তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিগণ নিজ নিজ ব্যাংকের দেনা-পাওনার বিবরণী প্রস্তুত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট দাখিল করেন । উক্ত কর্মকর্তা সকল বিবরণীর ওপর ভিত্তি করে আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করেন ।

খ. আধুনিক বা স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর পদ্ধতি : ইলেকট্রনিক ব্যাংকিংয়ের আশীর্বাদে নিকাশ ঘর ব্যবস্থায়ও এসেছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। যেখানে নির্দিষ্ট অঞ্চলের নিকাশ কার্য সম্পাদিত হতো সেখানে স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর ব্যবস্থা চালু হওয়ায় দেশের যেকোনো অঞ্চলের ব্যাংকের দেনা- পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর পদ্ধতি একটি কম্পিউটারাইজড নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিকাশ ঘরের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ইলেকট্রনিক স্বয়ংক্রিয় নিকাশ সুবিধার প্রবর্তন করেছে তা Bangladesh Automated Clearing House (BACH) বা বাংলাদেশ ক্ষয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর সাধারণত দুইটি কাজ করে থাকে। 

১. চেক ব্যবস্থাপনা

২. তহবিল স্থানান্তর

২. চেক ব্যবস্থাপনা:  চেকের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য এবং এর থেকে সৃষ্ট দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির জন্যে Bangladesh Automated Clearing House (BACH) কাজ করে । কোন ব্যাংক অন্য ব্যাংকের চেক পাওয়ার পর সেগুলো স্ক্যান করে BACH এর মাধ্যমে সেই ব্যাংকে পাঠানো হয়, সেই ব্যাংক চেকের সত্যতা যাচাই করে অর্থ প্রদানে সম্মতি জানালে BACH এর মাধ্যমে সেই দেনাপাওনার নিষ্পত্তি করা হয়।  চেকগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য চেকগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় – 

ক. উচ্চমূল্য চেক: সাধারণত ৫ লক্ষ ও এর বেশি মূল্যের চেককে বড় চেক বা উচ্চমূল্যের চেক হিসেবে গণ্য করা হয় । এই চেকগুলো ১২ টার মধ্যে BACH এ পাঠিয়ে ঐদিন দুপুর ২ টার মধ্যে দেনা পাওনা নিষ্পত্তি করা হয় । 

খ. সাধারণ মূল্যমানের চেক: সাধারণত ৫ লক্ষ এর চেয়ে কম মূল্যমানের চেক BACPS ব্যবস্থায় সাধারণ মূল্যমানের চেক হিসেবে বিবেচিত হয়। এইরকম চেকগুলো ঐদিন সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয় ।

২. তহবিল স্থানান্তর : বাংলাদেশ স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর ব্যবস্থা (BACH) এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা হলো চেক ছাড়া এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে সরাসরি তহবিল স্থানান্তর করা। এক্ষেত্রে তহবিল স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতিটির নাম হলো (Bangladesh Automated Fund Transfer Network- BEFTN) বা স্বয়ংক্রিয় তহবিল স্থানান্তর (Electronic Fund Transfer-EFT) বলে। দেশে ও বিদেশে তহবিল স্থানান্তরে ক্ষেত্রে EFT ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখে। এক ব্যাংক হতে অন্য ব্যাংকে অনলাইনে টাকা পাঠানোর পদ্ধতিকে বিএফটিএন বলে ।

নিকাশ ঘরের গুরুত্ব

নিকাশ ঘরের সাহায্যে ব্যাংকারগণ তাদের পরস্পরের দেনাপাওনা সংগ্রহ ও পরিশোধের ব্যবস্থা করে। আধুনিক ব্যাংকিং জগতে নিকাশ ঘরের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কেননা, নিকাশ ঘরের ওপরই ব্যাংকিং ব্যবসায়ের দক্ষতা ও গতিশীলতা নির্ভর করে। 

নিকাশ ঘরের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা :

১. দেনাপাওনা সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তি: নিকাশ ঘরের মাধ্যমে সদস্য ব্যাংকগুলোর পারস্পরিক দেনাপাওনা খুব সহজে এবং দ্রুততার সাথে নিষ্পত্তি করা যায়।

২. সময় বাঁচায় : নিকাশ ঘর ব্যবস্থায় চেক, বিল প্রভৃতি সংগ্রহের জন্য আদিস্টকে ব্যাংকে যেতে হয় না বলে সময় বেঁচে যায় ।

৩. নগদ আমানত : নিকাশ ঘর ব্যবস্থা সদস্য ব্যাংকগুলোকে স্বপ্ন নগদ আমানতেই কাজ পরিচালনায় সাহায্য করে ।

৪. অর্থ স্থানান্তরে সহায়ক : এ বাবস্থায় ব্যাংকের গ্রাহকগণ অতি সহজে এবং স্বীয় ঝুঁকিতে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যেকোনো পরিমাণ টাকা চেকের মাধ্যমে স্থানান্তরের সুবিধা পায়। 

৫. ঋণ নিয়ন্ত্রণ সহজ : কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিকাশ ঘর পদ্ধতি দ্বারা ব্যাংকগুলোর নগদ তারল্যের তথ্য জানতে পারে। ফলে নিকাশ ঘর ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

৬. মিতব্যয়ী পন্থা: নিকাশ ঘরের মাধ্যমে সদস্য ব্যাংকের প্রতিনিধিগণ একটি নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হয়ে সুশৃঙ্খলভাবে কম খরচে পারস্পরিক দেনাপাওনা নিষ্পত্তি করতে পারে। 

৭. লেনদেনের সুবিধা: নিকাশ ঘর কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা গ্রাহক বা দেনাদারদের থেকে প্রাপ্ত চেক, বিল, ড্রাফট স্বল্প সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে ভাঙাতে পারে। ফলে ব্যবসায়িক লেনদেন ত্বরান্বিত হয়।

৮. অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুধাবন: নিকাশ ঘর ব্যাবস্থায় সদস্য ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের সকল চেক, বিল, ড্রাফট ক্যাশ করার জন্য নিকাশ ঘরে জমা দেয়। ফলে এসব দেখে নিকাশ ঘরের এলাকার ব্যবসায়-বাণিজ্যসংক্রান্ত অর্থনৈতিক ধারণা লাভ করা যায়। 

উপসংহার

আধুনিক জটিল প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিচালনা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিকাশ ঘর বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে ।

এরকম আরও আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন । আর পোস্টটি ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না ।

FAQ

নিকাশ ঘর হলো এমন একটি  স্থান বা ব্যবস্থা যেখানে বিশেষ কৌশলে আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা হয় । কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিকাশ ঘরের প্রধান হিসেবে কাজ করে ।

স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর পদ্ধতি একটি কম্পিউটারাইজড নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিকাশ ঘরের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ইলেকট্রনিক স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘরের ব্যাবস্থা করেছে তা – Bangladesh Automated Clearing House (BACH) বা বাংলাদেশ ক্ষয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর নামে পরিচিত।

 

  • নিকাশ ঘর হলো প্রাত্যহিক আন্তঃব্যাংকিং লেনদেন নিষ্পত্তির স্থল 

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্বাচিত কোনো নির্দিষ্ট ঘর বা স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে নিকাশ ঘর বসে

  • সদস্য ব্যাংকের প্রতিনিধিগণ নিকাশ ঘরে উপস্থিত হয়ে দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিকাশ ঘরের প্রধান

আন্তঃব্যাংকিং লেনদেন নিষ্পত্তিই নিকাশ ঘরের প্রধান বা মূল কাজ ।

উনিশ শতকের শেষের দিকে লন্ডনের লুববক ব্যাংক প্রথম নিকাশ ঘর চালু করে ।

নিকাশ ঘর ধারণার জনক আরভিল ।